প্রকাশিত: Sat, Feb 17, 2024 9:58 AM
আপডেট: Mon, Jan 26, 2026 5:02 PM

[১]টাকার অভাবে পড়তে পারেননি জিয়াউল হক, দই বিক্রি করে হাজারো শিক্ষার্থীকে পড়ার খরচ দিয়ে যাচ্ছেন [২]সমাজসেবায় পাচ্ছেন একুশে পদক

জামিল হোসেন: [৩] জিয়াউল হকের বয়স ৯১। তিনি বলেন, আমার বাবা ছিলেন গ্রামের  গোয়ালা। পঞ্চম শ্রেণি পাশ করে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হতে চাই। দরিদ্র বাবা  বই কেনার টাকা দিতে পারেননি। আর স্কুলে যাওয়া হয়নি। এক পর্যায়ে দই বিক্রি  শুরু করি ।

[৪] তিনি বলেন, আমি এখন এক জায়গায় বসে দই বিক্রি করি। এর আগে দীর্ঘ ৬৫ বছর ধরে জেলায় ঘুরে ঘুরে মাথায় করে দই বিক্রি করেছি। হঠাৎ একদিন মনে হলো আমি যেমন শিক্ষা থেকে ঝরে পড়েছি তেমন অনেক ছেলে মেয়ে শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ছে। তখন আমি অর্থসম্পদের  চিন্তা না করে শুরু করি বই কেনা। ১৯৬৯ সালে ভোলাহাট উপজেলার মুশরিভূজা গ্রামে জিয়াউল হক সাধারণ পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করি।

[৫] তিনি আরো বলেন, এরপর থেকেই শুরু হয় আমার সমাজসেবা। এলাকার স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে বই প্রদান। গ্রামের দরিদ্র মানুষের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। গরীব দুঃখীদের বাড়ি নির্মাণ, নলকূপ স্থাপন, দুস্থদের খাদ্য সহায়তা, স্কুল-কলেজে বেতন দেওয়াসহ সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কাজে আর্থিক সাহায্য করে যােচ্ছি। যত দিন বেঁচে থাকব, মানুষের সেবা করে যেতে চাই।

[৬] তার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার চামামুশরীভূজা গ্রামে। ১৯৩৮ সালে  এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন তিনি। 

[৭] এ বছর একুশে পদকের জন্য মনোনীত হওয়ার বিষয়ে  তার অভিব্যক্তি, পদক শুধু আমার একার নয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসী এ জন্য গর্বিত। 

[৮] তার কলেজপড়ুয়া ছেলে মহব্বত আলী বলেন, আমি বাবার অবর্তমানে পাঠাগারের হাল ধরব এবং  মানুষের কল্যাণ করে যাবো।

[৯] দলদলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজ্জামেল হক চুটু বলেন, জিয়াউল হকের জন্য আমরা গর্বিত।

[১০] এর আগে রহনপুর স্কাউট দল, ভোলাহাট প্রেস ক্লাব, খুলনা পিপি কলেজ, জেলা প্রশাসন, চ্যানেল আই, নবাবগঞ্জ নয়াগোলা পাঠাগার, সালে ইটিভি এবং ফ্রিডম ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি তাকে সংবর্ধনা দেয়। সর্বশেষ তার কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ইউনিলিভার বাংলাদেশ ২০০৬ সালে তাকে ‘সাদা মনের মানুষ’ পদকে ভূষিত করে। সম্পাদনা: সালেহ্ বিপ্লব